Home / আইন ও আদালত / র‌্যাবের কাছে ধরা পরেছে ধর্ষক তারেক

র‌্যাবের কাছে ধরা পরেছে ধর্ষক তারেক

গণরায় নিউজ ডেক্স :

তারেকুল ইসলাম তারেক। সিলেটের মুরারীচাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনায় এজাহারভুক্ত দুই নম্বর আসামি। ঘটনার পর পরই গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছিল। আত্মগোপনে থাকলেও গণমাধ্যমের খবর আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বরাতে নিশ্চয়ই জানতে পারছিলেন, তার মতো এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে হন্যে হয়ে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যাদের সঙ্গে মিলে দলবদ্ধ ধর্ষণটি ঘটিয়েছিলেন, একে একে তাদের র‌্যাব-পুলিশের জালে ধরা পড়ার খবরও নিশ্চয় পাচ্ছিলেন।

আর সে কারণেই হয়তো নিজের পরিচয় লুকিয়ে ফেলতে মাথার ‍চুল তো চুল, গালভর্তি বিশাল বিশাল দাড়িও অবলীলায় ফেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু রেহাই পেলেন কি? না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বেশিক্ষণ ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে পারেনি তারেকুল ইসলাম তারেক। মামার বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে চার দিন ‘দুধ ভাত‘ খেয়েছেন কি না, তা জানা যায়নি। তবে ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায় ঠিকই হাতকড়া উঠেছে তারেকের হাতে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে র‌্যাব-৯-এর একটি দল সুনামগঞ্জের দিরাই থেকে তারেককে গ্রেফতার করেছে। তারেককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের বরাত দিয়ে র‌্যাব-৯-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু মুছা মো. শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, দিরাইয়ে মামার বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন তারেক। টার্গেট ছিল, যেকোনোভাবে সুযোগ তৈরি করে দেশের বাইরে চলে যাবেন।

র‌্যাবের একটি সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তারেক স্বীকার করেছে— এমসি কলেজে শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই তরুণীকে দলবলে ধর্ষণের পরই তারা বুঝতে পারেন, এ ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে রাখা সম্ভব না। তাই অন্য সহযোগীদের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে থাকতে একেকজন একেক দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সঙ্গে এ ঘটনার রেশ না কাটা পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ না করার সিদ্ধান্তও নেন তারা।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধর্ষণে জড়িত সবাই নিজেদের সুবিধামতো স্থানে আশ্রয় নিতে চেষ্টা করেন। তারা নিজেদের মধ্যে মোবাইলে যোগাযোগ না করলেও সিলেট ছাত্রলীগের কয়েকজনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ ছিল তাদের। সেই যোগাযোগের সূত্র ধরেই অবস্থান শনাক্ত করে গোয়েন্দা পুলিশ। শুরুতেই গ্রেফতার হয় সাইফুর ও অর্জুন লস্কর। এরপর একে একে এজাহারভুক্ত আরও তিন জন এবং এজাহারের বাইরেও আরও দুই জনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

র‌্যাব সূত্র বলছে, সাত জন ধরা পড়লেও ‘অতি চালাক‘ তারেকের সন্ধান বের করতে বেগ পেতে হয়েছে তাদের। ঘটনার দিন তার গালভর্তি ছিল লম্বা লম্বা দাড়ি। মাথায় চুলও ছিল। এই চেহারাকেই সুযোগ হিসেবে নিয়েছিলেন তিনি। চটজলদি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে দেন মাথার সব চুল, গালের সব দাড়ি। তাতে করে একনজরে আগের চেহারার সঙ্গে নতুন চেহারার মিল খুঁজে পাওয়াটা কঠিনই ছিল। নতুন এই বেশেই তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন মামার বাড়ি। ইচ্ছা ছিল, পরিস্থিতি বুঝে দেশ থেকে পালিয়ে যাবেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। প্রযুক্তির সহায়তায় দেরিতে হলেও তারেকের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। গোটা সিলেট বিভাগে কড়া নজরদারি রাখা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েছেন তিনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের কাছে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছেন।

এর আগে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এমসি কলেজে ঘুরতে আসা এক দম্পতিকে আটক করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জোর করে ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। জানা যায়, তারা স্বামীকে বেঁধে রেখে ওই তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার তরুণীর স্বামী ওই দিন (শুক্রবার) রাতেই বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় মামলা দায়ের করেন। ছয় জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিন জনকে আসামি করা হয় মামলায়। তারা হলো— এম সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেক আহমদ, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুম। তারা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত।

এর মধ্যে তারেক ও রবিউল বহিরাগত, বাকিরা এমসি কলেজের শিক্ষার্থী। আজ তারেক গ্রেফতার হওয়ার মাধ্যমে ধর্ষণ মামলাটির এজাহারভুক্ত সব আসামি গ্রেফতার হলো।

আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

%d bloggers like this: