Home / রাজনীতি / তোবা গার্মেন্টস এর সেই খলনায়ক দেলোয়ার এখন মৎসজীবীলীগ নেতা

তোবা গার্মেন্টস এর সেই খলনায়ক দেলোয়ার এখন মৎসজীবীলীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিনিধি :

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর দিবাগত রাতে আশুলিয়ার নিশ্চন্তপুর তোবা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান তাজরিন ফ্যাশনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১১১ জন পোশাক শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। তৎকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে এক আলোচনায় বলেছিলেন, এটি কোন দুর্ঘটনা নয়। পরিকল্পিত ভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

বিশ্ব বাটপার প্রতারক দেলোয়ার, রিজেন্ট সাহেদেরই আরেক অনুসারী। প্রতারণায় রিজেন্ট সাহেদকেও হার মানিয়েছে প্রতারক দেলোয়ার। আলোচিত রিজেন্ট সাহেদ মহামারী করোনার সনদ নিয়ে জালিয়াতি করে আলোচনায় আসে। পরে ধীরে ধীরে বেড়িয়ে আসে সরকারি চাকরির নিয়োগ জালিয়াতিতেও শীর্ষে রয়েছে। কয়েক বছর ধরে জালিয়াতি করলেও ধরা পরে সরকারের শিকলে।

এদিকে আলোচনায় ইদানিং তেমন না আসা দেলোয়ার কম যায় কিসে? এপযর্ন্ত স্থানীয় নেতা পাতি নেতাদের ম্যানেজ করে আড়াল করে রেখেছিল তার বিভিন্ন প্রতারণার কাহিনী।

দেশের গার্মেন্টশিল্প ধংসকারী শত মানুষের খুনি দেলোয়ার হোসেন নামের এই প্রতারক বর্তমানে পাঁচটি গার্মেন্ট এর মালিক। এক সময় ১৬শ শ্রমিককে বেতন না দেওয়ার কারনে তার শাস্তির দাবীতে অনশন মানববন্ধন কর্মসূচি বাস্তবায়ন সহ ৫ দফা দাবী তুলে, হাজারো শ্রমিক রাজপথ বন্ধ করে আন্দোলন করে। এই প্রতারক দেলোয়ার কালের বিবর্তনে নিজের আখের ঘোচাতে, আজ রাঘব বোয়ালদের এক আশ্চর্য জ্বীনের প্রদীপ বণে গেছে।

তার অপরাধের কাহিনী ও কৌশল বর্ণনা করতে গিয়ে ভুক্তভোগীরা জানান, সে রিজেন্টের সাহেদের সম্পূর্ণ বিপরীত ভাবে প্রতারণা করছে। রিজেন্টের সাহেদ বড় বড় নেতা, মন্ত্রী এমপিদের সাথে ছবি তুলে প্রতারণা করলেও দেলোয়ার হোসেন কারো সাথে ছবি তুলতো না। সে প্রত্যেক শহরের একজন বয়স্ক বা সাধারণ কাপড়ের ব্যাবসায়ী বায়িং হাউজ এসব ব্যক্তিকে টার্গেট করতো। যার কথা ভুক্তভোগীরা শুনে এমন লোককে তার ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা।

এছাড়াও ইদানীং রিজেন্ট সাহেদের মত তার ফ্যাক্টারীর কর্মিদের করোনা পরীক্ষা নিয়েও জালিয়াতির পরিকল্পনা করছিল বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।

দেলোয়ার ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সাবেক ঢাকা-৫, বর্তমান-১১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মো. কাইয়ুমের পক্ষে সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। বাড্ডা তার বাড়ীর সামনে আনন্দ নগর আদর্শ বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে ধানের শীষের ব্যাচ গলায় ঝুলিয়ে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহীনির সহায়তায় ভোট কেন্দ্র দখল করার চেষ্টা চালিয়ে ছিল। ওই সময় এলাকার প্রবীন আওয়ামী লীগের ও শ্রমিক লীগের অনেক নেতাকর্মী তার দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিল।

তবে দেলোয়ার এখন বোল পাল্টেছে বর্তমানে সে আওয়ামী মৎস্যজীবিলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান সাইদ এর মদদে, নগদ আর্থিক সুবিধা দিয়ে, নিজের রাজনৈতিক বোল পাল্টিয়ে, তার বিগত দিনের তাজরীন গার্মেন্টস ট্রাজেডির মামলাগুলো থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে।

হঠাৎ সাপলুডুর বড় মই বেয়ে একলাফে বছর না ঘুড়তে মৎস্যজীবী লীগের মহানগর উত্তর কমিটির সভাপতির পদ হাসিলের জন্য, কেন্দ্রীয় সভাপতিকে তার নিজ গাড়ী দিয়ে বাসা থেকে শুরু করে সকল রাজনৈতিক কর্মকান্ডে আনা নেওয়া জন্য রিজার্ভ করে রেখেছে এই দেলোয়ার।

মাসিক বড় অংকের মাসোহারা ও প্রদান করছেন কেন্দ্রীয় সভাপতিকে। এ বিষয়ে বাড্ডার স্হানীয় আওয়ামীলীগের নেতা কর্মী ও মৎস্যজীবীলীগের প্রকৃত ত্যাগী নেতা কর্মীরা দেলোয়ারের সভাপতি পদ প্রচেষ্টাকে ঘৃণ্য চোখে দেখছেন। এদিকে কেন্দ্রীয় সভাপতিও দেলোয়ারের ভয়ে কোন প্রতিবাদ করতে পারছে না।

এখন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এম.পি এর সু দৃষ্টি কামনা করেছেন ত্যাগী নেতা কর্মীরা।

এদিকে মৎসজীবীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইদুর রহমান সাঈদ রাজধানীর মালিবাগে বিলাসবহুল ফ্লাট ক্রয় করেছেন। কমিটি বানিজ্য ও পদ বেচাকেনা করে বেশ ফুলেফেঁপে উঠেছে তিনি। সেইসাথে দেলোয়ারের দেয়া আর্থিক সহায়তা ও বিলাসী গাড়ী তাঁকে নব্য রাজত্বের রাজা করে দিয়েছে, সাইদুর রহমান সাঈদ এতদিন রামপুরা বনশ্রী ভাড়ায় থেকে বড়ই ক্লান্ত, চলতি সপ্তাহে নতুন ফ্লাটে উঠেছেন বলেও জানায় একটি সূত্র।

নিজের আয় ইনকাম এর কোন উৎস না থাকলেও, দেলোয়ার এর মত জীনের প্রদীপকে বশীভূত করেছেন ঠিকমত? আর এই খুঁটির বলে দেলোয়ার ও নিজেকে এমপি, মন্ত্রী ও সচিবের ঘনিষ্টজন এমন আরোও অনেক পরিচয় দিতে শুরু করেছে সুবিধামত। বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে সে হাতিয়ে নিয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। ভুক্তভুগীরাও থানা পুলিশ করে তেমন সুবিধা করতে পারছে না।

বহুরুপী প্রতারক দেলোয়ার হোসেন এর নিজ এলাকার জামালপুর এর মিহাত নামের একলোক ৬ লাখের বেশী টাকা পাবে। যার সকল ডকুমেন্টস বাড্ডা থানায় লিপি বদ্ধ করা আছে, যার জিডি নং ৫২০, যা চলতি বছর রুজু করলেও কোন তদন্ত হয়নি এখনো। বরং উল্টো বিবাদীকে প্রাননাশ সহ নানাবিধ হুমকি অব্যহত রেখেছে দেলোয়ার।

প্রায় শ’খানেক ফৌজদারি অপরাধে মামলা থাকা সত্ত্বেও কিভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত অঙ্গ সংগঠন মৎস্যজীবীলীগের পদ পাওয়ার আশা করে, রাজনৈতিক অঙ্গনকে কুলশিত করে তা কারো বোধগম্য নয় বলে মনে করে সাধারণ মানুষ।

আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

%d bloggers like this: