Home / দেশের খবর / ২ দিন অপেক্ষা শেষে অশ্রু চোখে বাড়ি ফিরলেন স্বজনরা

২ দিন অপেক্ষা শেষে অশ্রু চোখে বাড়ি ফিরলেন স্বজনরা

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

পঞ্চগড়ের চারটি সীমান্তে নববর্ষ উপলক্ষে ভারত-বাংলাদেশের বাঙালি নাগরিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। ভারতে লোকসভা নির্বাচনের কারণে এবার সীমান্তে দুই বাংলার মিলনমেলায় অসম্মতি জানিয়েছে বিএসএফ।

প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে জেলার অমরখানা, শুকানি, মাগুরমারি ও ভারতীয় ভূতিপুকুর সীমান্তে দুই বাংলার নাগরিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হতো। পহেলা বৈশাখ রোববার এবং সোমবার সকাল থেকে এসব সীমান্তে বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভারতে থাকা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের একনজর দেখার অপেক্ষায় ছিলেন।

সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের ভারতীয় অমরখানা সীমান্তে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সীমান্তের এপারে কাঁটাতারের কাছে সহস্রাধিক মানুষের ভিড়। তারা সবাই বাঙালি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তারা বাড়ি ফিরে যান। অনেকে বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিলেন। কেউ কেউ গতকাল থেকে অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনদের দেখা পাওয়ার। কিন্তু দেখা না পেয়ে অবশেষে অশ্রু চোখে বাড়ি ফিরে যান স্বজনরা।

Panchagarh-Border

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রতি বছর একটি দিন উভয় দেশের দুই বাংলার সাধারণ নাগরিকরা কাঁটাতারের দু’পাশ থেকে মিলিত হওয়ার সুযোগ পেতেন। কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁক গলিয়ে একে-অন্যের সঙ্গে কথা বলতেন, ভাব মিনিময় করতেন। উপহার হিসেবে পছন্দের পণ্য সামগ্রী একে-অন্যের সঙ্গে আদান-প্রদান করতেন।

ভিসা এবং পাসপোর্ট করে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সামর্থ্য নেই দুই বাংলার এসব মানুষের। ফলে বছরজুড়ে পহেলা বৈশাখের এই দিনটির অপেক্ষায় থাকেন তারা।

মিলনমেলায় পঞ্চগড় ছাড়াও ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুর থেকে বিভিন্ন বয়সী অসংখ্য মানুষ এখানে আসেন। এবার মিলনমেলা হচ্ছে না বুঝতে পেরেও হাজার হাজার মানুষ এসব সীমান্তে এসে ভিড় করেছেন। কিন্তু এবার ভারতের লোকসভা নির্বাচনের কারণে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়নি।

Panchagarh-Border

জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীরহাট এলাকা থেকে আসা শ্রমতি ভারতী রানি (৭০) বলেন, ভারতে আমার মেয়ে থাকে। এভাবে প্রতি বছর আমাদের দেখা হতো। কিন্তু এবার দেখা হলো না। মেয়েকে না দেখে ফিরে যেতে হচ্ছে।

একই এলাকার শিবেশি বালা নামে আরেক বৃদ্ধা বলেন, শিলিগুড়ির পাথরঘাটায় থাকা বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। কিন্তু দেখা করতে পারিনি। এজন্য খুব কষ্ট হচ্ছে। আবার এক বছর অপেক্ষায় থাকতে হবে।

সদর উপজেলার অমরখানা ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান বলেন, মিলনমেলা না হওয়ার বিষয়টি আমরা মাইকিং করে জানিয়েছি। তবুও স্বজনদের দেখার আশায় বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ সীমান্তে এসে ভিড় করে। এ নিয়ে আমাদের কিছুই করার নেই।

পঞ্চগড় ১৮-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায় লে. কর্নেল এরশাদুল হক বলেন, ভারতে লোকসভা নির্বাচনের কারণে এবারের মিলনমেলায় সম্মতি দেননি বিএসএফ। এ নিয়ে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকে তারা ভারতের লোকসভা নির্বাচনের কারণ দেখিয়ে মিলনমেলা অনুষ্ঠানে অসম্মতির জানায়।

Avatar

Author: Mutasim Billa

Sub-Editor www.gonoray24.com phone:- 01752907246


আপনার মতামত লিখুন

আপনার ‘ই-মেইল’ ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না, কিন্তু স্টার চিহিৃত ঘরগুলো পূরণ করতেই হবেতেই হবে *

*