Home / স্বাস্থ্য / আপনাদের সহযোগীতায় আরও কিছুদিন পৃথিবীর আলো-বাতাস দেখে মরতে চাই

আপনাদের সহযোগীতায় আরও কিছুদিন পৃথিবীর আলো-বাতাস দেখে মরতে চাই

রাজু আহমেদ, নিজস্ব প্রতিনিধি :

এত তাড়াতাড়িই মরতে চাই না। আপনাদের সহযোগীতায় পৃথিবীর আলো-বাতাসে আরও কিছুদিন স্ত্রী সন্তানসহ বেচে থাকতে চাই। পৃথিবীতে আমার স্ত্রী সন্তানকে সুখী ও সুস্থ হিসেবে আরও কিছুদিন দেখে মরতে চাই।

প্রতিবেদকের হাত ধরে চাপা কান্না বিজরিত অশ্রুশিক্ত নয়নে এভাবেই বলছিলেন সাভার উপজেলাধীন মিরপুরের দ্বীপখ্যাত কাউন্দিয়া ইউনিয়নের বুড়িরটেক নিবাসী মরণব্যাধি ক্যান্সার আক্রান্ত খোকন মোল্লা (৫০)।
খোকন মোল্লার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার মধ্য চাঁদপুর গ্রামে।

জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন হলো গ্রামের বাড়ি ছেড়ে কর্মসংস্থানের আশায় পাড়ি জমিয়েছিলেন রাজধানীতে। ১২০০ টাকার বিনমিয়ে আশ্রয় নেন রাজধানীর মিরপুরের পার্শ্ববর্তী কাউন্দিয়া ইউনিয়নের একটি ভাড়াবাড়িতে। পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। পৃথিবীতে একটু সুখ-স্বাচ্ছন্দে বাচতে কে না চায়? রাজমিস্ত্রি খোকন কিছু টাকা যোগাড় করে বাসার পাশেই একটি মুদি দোকান দেন।

নিজের স্ত্রী খাদিজা দোকান পরিচালনা করেন আর খোকন করেন রাজমিস্ত্রীর কাজ। আট বছর বয়সী ছেলেটি পাশের একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে। বেশ ভালোই চলছিলো তাদের সংসার। তবে এই সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি তাদের সংসারে। মরণব্যাধি ক্যান্সার বাসা বাধে দরিদ্র দিনমজুর খোকনের শরীরে।

মরণব্যাধি ক্যান্সারাক্রান্ত খোকনের স্ত্রী খাদিজা বলেন, বছর তিনেক আগে (২০১৫ সাল) খোকন মাঝে মাঝে তুমুল পেটের ব্যথায় চিৎকার করতেন। পেটে ব্যথার এই সমস্যা দূর করতে নানা চিকিৎসা গ্রহণ করেও তা কমেনি। বরং তীব্র পেটের বেদনায় সে নিয়মিত চিৎকার করতে থাকে।
মরণব্যাধি ক্যান্সার বাসা বাধে খোকন মোল্লার শরীরে। রাজধানী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার পাশাপাশি পরীক্ষা-নীরিক্ষার এক পর্যায়ে তার শরীরে মরণব্যাধি ক্যান্সার ধরা পড়ে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওথেরাপী বিভাগের আবাসিক সার্জন ডাঃ মেহের জাবীনের চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রতিবেদকের সাথে কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন দরীদ্র খোকনের স্ত্রী খাদিজাও। ব্যয়বহুল এই মরণব্যাধির চিকিৎসার অর্থ যোগানে তার চিকিৎসায় আত্মীয় সজনের সহযোগীতার পরেও নিজেদের মুদি দোকানটিও বিক্রি করে ফেলতে বাধ্য হই। বর্তমানে আমি মানুষের বাড়িতে বাড়িতে বুয়ার কাজ করে যা পাই তা দিয়ে আমার সংসারের সদস্যদের ঠিকমতো তিনবেলা খাবারই জোটে না।

এই অবস্থায় আমার স্বামীর চিকিৎসার অর্থ যোগাড় করা আমার জন্য একরকম অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমার স্বামীকে বাচাতে ও আমার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সকল লোকলজ্জা দূরে ঠলে আমি সমাজের বিত্যবান লোককজনের নিকট আমার স্বামীর প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে সাহায্য প্রার্থনার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। একটু সহযোগীতা পেলে আমার স্বামীকে পৃথিবীর বুকে বাচিয়ে রাখতে পারবো।

এবিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ডিএমসিএইচ) রেডিওথেরাপী বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মেহের জাবীন বলেন,ক্যান্সার আক্রান্ত খোকন মোল্লা আমার নেতৃত্বে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আমরা তাকে প্রায়য় দুবছর যাবত চিকিৎসা দিয়ে আসছি। এখন তাকে আমরা হাসপাতালে ভর্তি না রাখলেও আরও চার মাস (১২০ দিন) তাকে অনাবাসিক চিকিৎসা নিতে হবে।

নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নীরিক্ষার পাশাপাশি চিকিৎসা নিতে হবে। এধরনের অসুখের চিকিৎসা একটু ব্যয়বহুল। তবে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে সে সম্পূর্ণ সুস্থ্য হয়ে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।

মানুষ মানুষের জন্যে,জীবন জীবনের জন্যে। আপনার সামান্য সহযোগীতাই ক্যান্সার আক্রান্ত খোকনকে সুস্থ্য করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারে। প্রয়োজনে যোগাযোগ ও সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা, ইসলামী ব্যাংক আমিন বাজার শাখার হিসাবনম্বর-২০৫০১৫১০২০১৬৬১৪১৩, বিকাশ নাম্বার-০১৮২১-৩৮৪০৫৮ (পারসোনাল) বিকাশ নাম্বার-০১৮৫২-৮০৯৬৯৩ (পারসোনাল)।



আপনার মতামত লিখুন

আপনার ‘ই-মেইল’ ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না, কিন্তু স্টার চিহিৃত ঘরগুলো পূরণ করতেই হবেতেই হবে *

*