Home / খোলা কলাম / সাভারবাসির পক্ষ থেকে বিজয়ী সাংসদের কাছে চাহিদা পত্র

সাভারবাসির পক্ষ থেকে বিজয়ী সাংসদের কাছে চাহিদা পত্র

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর এই নির্বাচনকে ঘিরে রয়েছে নানান জনের নানান চাহিদা, প্রায় প্রতেকেই তাদের নিজেদের চাহিদার কথা জানাচ্ছে নিজের মত করে, বর্তমানে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে তা প্রকাশ করছে অনেকেই।

আমরা তেমনি একটি চাহিদা প্রত্র পেলাম ফেসবুক থেকে, লেখাটি লিখেছেন সাভারের বাসিন্দা মো. নাসিম হাসান। নাসিম হাসান একজন কলামিষ্ট, ওয়েব ডেভলাপার এবং চেয়ারম্যান “এ্যাংলি বাংলাদেশ” নিম্নে তার লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো :

ডাঃ মোঃ এনামুর রহমান এবং ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন
আস সালামু আলাইকুম,

প্রথমেই আপনাদের দুজনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি সাভার ও আশুলিয়া তথা ঢাকা-১৯ আসন থেকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে মনোনীত হওয়ার জন্য।

 

আপনারা দুজনে নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে ঢাকা-১৯ বাংলাদেশ এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর একটি। অর্থনৈতিক গুরুত্ব ছাড়াও শুধুমাত্র ভোটার সংখ্যার বিচারেই এ আসন বিশেষ গুরুত্বের দাবিদার। ইতিমধ্যে আপনাদের নিজ নিজ দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে।

 

কিন্তু যেহেতু সাভারের বিষয়টি একটু ভিন্ন সেহেতু সাভারের আপামর জনসাধারণের চাওয়া পাওয়াও একটু ভিন্নতর। আপনাদের মধ্যে যিনিই নির্বাচিত হোন না কেন মনে রাখতে হবে তিনি প্রায় অর্ধকোটি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবেন। তাই দলীয় নির্বাচনী ইশতেহার এর বাইরে সাভার ও আশুলিয়ার জনগণের জন্য আপনারা কি কি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন- তা আমরা জানতে চাই।

প্রাচীনকাল থেকেই দেখা যায় যে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে সাভারের মানুষের চাহিদা অত্যন্ত নগণ্য। স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ ও রাতে শান্তিতে ঘুমানোর নিশ্চয়তার বাইরে সাভারের জনগণের প্রত্যাশা খুবই কম। তাই সাভারের মানুষের কাজ-কর্ম তথা ব্যাবসা বাণিজ্যের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং সর্বোপরি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আপনারা কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন তা আমরা জানতে চাই।

 

আপনারা নিশ্চয় জানেন যে, সাভারের প্রাণ স্পন্দন হলো বংশী নদী। সাভার নগরীর গোড়াপত্তন হয়েছিল এই নদীকে কেন্দ্র করে। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন ও জীবিকার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে এই বংশী নদী। হাজার হাজার হেক্টর জমির চাষাবাদ প্রত্যক্ষভাবে বংশী নদীর সাথে সম্পৃক্ত। প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদী এখন মৃতপ্রায়। দুষণ ও দখলে হারিয়ে যেতে বসেছে হাজার বছরের ইতিহাসের সাক্ষী এ নদী। এ নদীর জীববৈচিত্র্য এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। বিভিন্ন স্থানে পলি জমে ওঠায় নদী হারিয়েছে তার স্বাভাবিক গতিপথ। প্রতিদিন এ নদীতে সরাসরি ফেলা হচ্ছে শত শত টন ক্ষতিকর বর্জ্য।

 

শত শত ইন্ডাস্ট্রির বর্জ্য সরাসরি ফেলা হচ্ছে এই নদীতে। এর সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে নদী দখলের মহোৎসব। এখনই ব্যবস্থা না নিলে খুব দ্রুত সাভারের জনগণ এক পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে। তাই, এই নদী দুষণ ও দখলমুক্ত করা এবং সাভার ও আশুলিয়ার পরিবেশ রক্ষায় আপনারা কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন তা আমরা জানতে চাই।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সাভার বোধহয় সবচেয়ে অসহায় আসনগুলোর একটি। এক সময়ের শান্তির সাভার এখন বর্জ্যের সাভারে পরিনত হয়েছে। নদীর পাড়, স্কুলের আঙ্গিনা, রাস্তায় ধার, চাষের জমি সহ প্রায় সব জায়গাতেই বিশাল বিশাল বর্জ্যের স্তুপ সাভার জুড়েই চোখে পড়ে। গৃহস্থালির বর্জ্য থেকে শুরু করে হাসপাতাল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল বর্জ্যের ভারে সাভারের পরিবেশ আজ অত্যন্ত হৃদয় বিদারক। সাভারের সব ধরণের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আপনারা কি কি পদক্ষেপ নিবেন তা আমরা জানতে চাই।

আশির দশকের শেষের দিকে এবং নব্বই এর দশকের শুরুর দিকে সাভারবাসী প্রথমবারের মতো মাদকের নীল দংশনের সাথে পরিচিত হয়। এরপর এতো বছরেও অজানা কারণে এটা থামানো যায়নি। ইতিমধ্যে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে হাজার হাজার জীবন ও শতশত পরিবার। শহরের অলিগলি থেকে গ্রামের মেঠোপথেও ঢুকে পড়েছে মাদকের বিষ। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য ছেলেমেয়ের জীবন ও তাদের পরিবার। মাদকমুক্ত সাভার গঠনে আপনাদের পরিকল্পনা আমরা জানতে চাই।

আমি আগেই বলেছি যে, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে সাভারের মানুষের চাওয়া অত্যন্ত নগণ্য। আমরা মাসের পর মাস বছরের পর বছর ভাঙাচোরা জলকাদায় ডুবে যাওয়া রাস্তা দিয়ে বিনা প্রতিবাদে চলতে পারি। তাই অবকাঠামোগত উন্নয়নের ব্যাপারে কিছু লিখলাম না। উন্নয়ন হলে ভালো, না-হলে নাই। কিন্তু যে বিষয়গুলোর। সাথে আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন জড়িত সেগুলোর বিষয়ে আপনাদের মূল্যবান মতামত আমাদের জানাবেন এই প্রত্যাশা নিয়ে শেষ করছি।

আপনাদের দুজনের জন্যই শুভকামনা রইল।

ইতি
-একজন নগণ্য সাভারবাসী
২০শে ডিসেম্বর, ২০১৮ইং

Avatar

Author: Kazi Biplop



আপনার মতামত লিখুন

আপনার ‘ই-মেইল’ ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না, কিন্তু স্টার চিহিৃত ঘরগুলো পূরণ করতেই হবেতেই হবে *

*